বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
যেসব মসজিদে আজও বেঁচে আছেন মহানবী (সা.)
অনলাইন ডেস্ক
মসজিদ ইসলামী জীবনের প্রাণকেন্দ্র। মুসলমানেরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মসজিদে মিলিত হন। মহানবী (সা.) মসজিদ থেকেই মানবজাতিকে ইসলামের মহৎ বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন। মদিনায় তিনি মসজিদ কেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জীবদ্দশায় অসংখ্য মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি মুসলিম উম্মাহর জন্য পথপ্রদর্শন করেছেন। মহানবী (সা.)-এর স্মৃতি জড়িয়ে এমন পাঁচটি প্রখ্যাত মসজিদ তুলে ধরা হলো—
১. মসজিদুল হারাম
ইসলামের পবিত্রতম স্থানের নাম মসজিদুল হারাম। এর কেন্দ্রে অবস্থিত কাবা, যাকে ঘিরেই মুসলমানেরা ইবাদত করেন। আল্লাহ তায়ালা ফরমান দিয়েছেন— তোমরা নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করো। (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৪৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর বাণী অনুযায়ী, এখানে আদায়কৃত এক রাকাত নামাজের সওয়াব অন্য যে কোনও মসজিদের এক লক্ষ রাকাত নামাজের সমান। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪০৬)
২. মসজিদে নববী
হিজরতের পর মদিনায় নবীজির উট বসার স্থানে তিনি মসজিদ গড়ে তোলেন। এটি শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং মুসলিম সমাজের প্রাণকেন্দ্র ছিল। সাহাবারা এখানে বাস করতেন, শিক্ষা গ্রহণ করতেন এবং সরাসরি নবীজির কাছ থেকে দ্বীন শিখতেন।
রাসুল (সা.) বলেছেন— মসজিদে হারাম ছাড়া আমার এই মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজ হাজার রাকাতের চেয়েও উত্তম। (বুখারি: ১১৯০; মুসলিম: ১৩৯৪)
৩. মসজিদুল আকসা
জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা, ইসলামের তৃতীয় পবিত্র মসজিদ। মেরাজ রাতে নবী (সা.) বুরাক বাহনে এখানে এসে নবীদের নেতৃত্ব দেন।
ফজিলত সম্পর্কে তিনি বলেছেন— মসজিদুল হারামে এক নামাজ এক লক্ষ, মসজিদে নববীতে এক হাজার, আর বাইতুল মাকদাসে এক নামাজ পাঁচশত নামাজের সমান। (মাজমাউয যাওয়াইদ, ৪/১১)
৪. মসজিদে কুবা
ইসলামের প্রথম মসজিদ মসজিদে কুবা, যা হিজরতের সময় মদিনার প্রান্তে নির্মিত হয়। নবীজি (সা.) নিজ হাতে মসজিদটির ভিত্তি স্থাপন ও নির্মাণ করেন। জমিটি ছিল হজরত কুলসুম ইবনে হিদম (রা.)-এর মালিকানাধীন একটি খালি জায়গা। নবীজি এখানে প্রায় ১০-১৪ দিন অবস্থান করেন এবং আতিথ্য গ্রহণ করেন।
৫. মসজিদে কিবলাতাইন
মদিনায় অবস্থিত এই মসজিদে নামাজের সময় কিবলা বদলের ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়। মুসলমানেরা প্রথমে বাইতুল মাকদাসের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তেন, পরে নির্দেশ আসে কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করার। এ কারণে এই মসজিদকে “দুই কিবলার মসজিদ” বলা হয়।
এই তথ্যগুলো মুসলমানদের জন্য মসজিদগুলোর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বকে নতুন করে অনুধাবনের সুযোগ করে দেয়।